সেরা 15টি: কলার উপকারিতা

সুস্থ স্বাস্থ্যের জন্য কলার উপকারিতার বিকল্প নেই বলতে পারি। কলা যেমনি সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর উপাদানের ভরপুর। কলার উপকারিতার গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে রাখুন।

উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে কলা একটি। স্বাস্থ্যকর ভাবে কলার উপকারিতা অনেক রয়েছে। কলা স্বাস্থ্যর জন্যে খুব উপকারী।

কলা অন্যতম একটি পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে একটি। কলায় থাকা উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম আমাদের শরীরের জন্যে খুবই উপকারী।

কলা খাওয়ার উপকারিতা কি কি –

কলা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম বিদ্যমান একটি পুষ্টিকর খাবার। প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা অনেক রয়েছে। যেমন হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী, কিডনি সুস্থ রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, ক্যান্সার প্রতিরোধক, ত্বকের জন্যে ভালো এছাড়াও আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে।

কলা_খাওয়ার_উপকারিতা

কলা খাওয়ার উপকারিতা আরো অনেক রয়েছে। কলা হার্ট ভালো রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, আলসারের মতো রোগের হাত থেকে রক্ষা করে, রক্তে হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন বাড়ায় এবং অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূর করতে কলার উপকারিতাও খুব রয়েছে। কলায় প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি পাওয়া যায়। প্রায় ২৫% চিনি থাকে এবং এই উপাদান গুলো শরীরের শক্তি বাড়াতে খুবই উপকারী।

সুস্থ সবল স্বাস্থ্যের জন্য কলার উপকারিতা অনেক। কলা আমাদের শরীরের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানগুলো বের করতে সাহায্য করে। কলা রয়েছে প্রেকটিন নামক একটি উপাদান। যা আপনার শরীরকে রোগ মুক্তি করতে খুবই কার্যকরী উপাদান।

সেরা 15টি: কলার উপকারিতা-

কলা পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারের অন্যতম একটি। দুধের সাথে কলাও খেতে পারেন, কারণ দুধের সাথে কলা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। বিদেশি দামি ফলের দিকে না ঝুঁকে। কম দামেই দেশি ফল খাওয়া বেশি উপকারী।

কলাতে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর উপাদান রয়েছে, এই উপাদান গুলো শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং গুরুত্বপূর্ন। কলাকে সুপারফুড হিসাবে বিবেচিত করা হয়েছে। যার অর্থ এটি পুষ্টিকর উপাদানের এবং পুষ্টিতে পরিপূর্ণ। কলার উপকারিতা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর পুষ্টিরে ভরপুর বহু উপকারী একটি ফল।

হৃদযন্ত্রের জন্য কলার উপকারিতা:

কলায় থাকা পটাসিয়াম একটি খনিজ হিসাবে পরিচিত যা রক্তচাপকে হ্রাস করে। এছাড়াও হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়াকলাপে সহায়তা করে। কলার উপকারিতা অনেক যেমন হৃদযন্ত্রর ভালো রাখতে, প্রতিদিন একটি বা দুটি কলা খেলে আপনার হৃদযন্ত্র অনেক বেশি সুস্থ্য ও সচল রাখে এছাড়াও হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে খুব উপকারী মনে হয়।

কিডনি সুস্থ রাখার জন্য উপকারী:

কিডনি সুস্থ রাখতে কলার উপকারিতা দরুন। কলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি 12, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি 5 সহ অনেক ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ভিটামিন পাওয়া যায়। এই ভিটামিনগুলি দেহের শক্তির যোগান এবং শরীরের অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে।

কিডনি সুস্থ রাখার জন্য কলার উপকারিতা অনেক রয়েছে যেমন ইউরিনে থাকা ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে এছাড়াও ক্যালসিয়াম জমা হতে বাধা দেয়। এরফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়।

শক্তি যোগান দিতে সাহায্য করে:

কলাতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা ও সল্যুবল ফাইবার থাকে। যা শরীরের শক্তি যোগান দিতে খুব উপকারী। এই কারণে খেলোয়াড়দের প্রায়ই খেলার আগে বা খেলা চলাকালীন কলা খেতে দেখা যায়। শক্তি বাড়াতে কলার উপকারিতা দারুন।

খাদ্য হজম শক্তি বৃদ্ধি করে:

কলা ফাইবার সমৃদ্ধ একটি দেশ ফল। যা আপনার শরীরের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কলার উপকারিতা প্রচুর তেমনি কলাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং প্রচুর শক্তি থাকে। ক্যালরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকে। যার ফলে কলা হজম ক্ষমতা বাড়াতে খুবি কার্যকারী।

রোগ প্রতিরোধক:

কলায় বিটামিন বি৬ রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্যে অ্যামিনো অ্যাসিড সৃষ্টি করে। এই অ্যামিনো  অ্যাসিডে রক্তে শর্করার এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কলার উপকারিতা অনেক।

ক্যান্সার প্রতিরোধক:

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য কলার উপকারিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কলায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদান গুলো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি দেহে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বৃদ্ধি। এরফলে ব্লাড ক্যান্সার এবং মহিলাদের স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মানসিক চাপ দূর করে:

কলায় ট্রিপটোফ্যানে প্রচুর পরিমাণে সমৃদ্ধ। এই ট্রিপটোফান আমাদের মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এমনকি সেরোটোনিন তৈরি করতেও সহায়তা করে। ট্রিপটোফ্যান হল সেরোটোনিনের সবচেয়ে মৌলিক রূপ। যা আপনার মানসিক চাপ কমাতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানসিক চাপ কমাতে কলার উপকারিতা দারুন রয়েছে।

ত্বক এবং চুলের জন্য উপকারী:

ত্বক এবং চুলের জন্য কলার উপকারিতা দারুণ। কলায় ত্বক এবং চুলকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কলায় থাকা ভিটামিন বি 6 এবং ভিটামিন সি ত্বক সুস্থ চুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান। ভিটামিন সি হলো একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের রোগ প্রতিরোধ করে এবং বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলিকে ধীর করে। ত্বক এবং চুল স্বাস্থ্যকর রাখতে কলার খাওয়া খুবই প্রয়োজন।

ক্যালোরির যোগান দিতে সাহায্য করে:

একটি কলায় রয়েছে মাত্র ১০৫ ক্যালরি। কাজেই আপনি যদি ডিনারে কম ক্যালোরি গ্রহণ করতে চান, তাহলে এক কাপ দুধ আর দুটো কলা খেতে পারেন। যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্যে অনেক উপকারী হবে।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে খুব উপকারী:

কলা ট্রিপটোফ্যান সমৃদ্ধ একটি ফল। এই ট্রিপটোফ্যান আমাদের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এটি মস্তিষ্ককে ডোপামিনের মতো অন্যান্য নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে সাহায্য করে। সেরোটোনিন এবং ডোপামিন উদ্বেগ এবং হতাশা হ্রাস করতে সাহায্য করে এছাড়াও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে কলার উপকারিতা দারুন।

আলসারের জন্য উপকারী:

পাকস্থলীর আলসার ও বুক-জ্বালা রোধের জন্য কলার উপকারিতা দারুন। কলা প্রোটেক্টিভ মিউকাস লেয়ার বৃদ্ধির মাধ্যমে পাকস্থলিতে পিএইচ লেভেল ঠিক রাখে। যা আপনাকে বুক-জ্বালা ও পাকস্থলীর আলসার থেকে রক্ষা করে।

অ্যানিমিয়ার রোগের জন্য খুব উপকারী:

অ্যানিমিয়ার মতো রোগের জন্য কলার উপকারী গুণ অনেক রয়েছে। কলায় রয়েছে বিপুল পরিমাণে আয়রন। যা শরীরে লহিত রক্তকণিকার মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এরফলে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অ্যানিমিয়া রোগীরা আয়রন ট্যাবলেটের পাশাপাশি নিয়মিত কলা খেতে পারেন।

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:

কোলেস্টেরল হ্রাস করে কলার উপকারিতা অনেক রয়েছে। কলায় কোলেস্টেরলের মাত্রা সর্বনিম্ন স্তর রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের বিরুদ্ধে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধের সাথে একটি করে কলা খেতে পারেন যা আপনার হৃদযন্ত্র, রক্তনালী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে, হৃদরোগের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত খাবার।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপকারী:

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য কলার উপকারিতা দারুন। কলায় থাকা পটাসিয়াম খনিজ হিসাবে পরিচিত। এটি রক্তচাপক হ্রাস করতে সাহায্য করে। এছাড়াও হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়াকলাপে সহায়তা করে। কলা ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। কলা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও খুব উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সুস্থ সবল স্বাস্থ্যের জন্য কলা খুব উপকারী।

আরো পড়ুন⇒

কলা ওজন কমাতে সাহায্য করে:

ওজন কমাতে কলার উপকারিতা নিয়ে নানান জনে নানান রকমের মতামত প্রকাশ করেছে। সত্যি কি কলা খেলে ওজন বাড়ে না কমে এটি জানা খুব প্রয়োজন।

এটি কলা খাওয়ার উপরে নির্ভর করে। কলা খেলে ওজন বাড়বে না কমবে এটি নির্ভর করবে আপনার কলা খাওয়ার উপরে। কলা ওজন কমাতে এবং ওজন বাড়াতে দুয়ো টাই কাজে সাহায্য করে।

যেমন আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে ওজন কমানোর জন্য কলা খান, তাহলে আপনার ওজন কমবে। কারণ কলা ওজন কমানোর পক্ষে খুব উপকারী। কলায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর আপনার অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকা অনুভূত হয়। আর তখন আপনার অন্য কোনো খাবার খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। এরফলে ওজন না বাড়ে ওজন কমার আশঙ্কা বেশি থাকে।

এইবার আপনে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে কলা এবং অন্যান্য খাবার খেয়ে থাকে। তাহলে আপনার ধীরে ধীরে ওজন বাড়াতে থাকবে। কলাতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, মিনারেল, ম্যাগনেশিয়াম এবং পটাসিয়াম এই উপাদান গুলো রয়েছে। এটি খুব দ্রুত শরীরে শক্তির যোগান দিতে সাহায্য করে।

Leave a Comment