গাজরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন

গাজর কেনো খাবেন? গাজরের উপকারিতা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশী শাকসবজিতে রাসায়নিক পদার্থ পরিমাণ কম থাকে। তাই চেষ্টা করা উচিত দেশী শাকসবজি খাওয়া জন্য। আসুন জেনেই কিছু অবাক গাজরের উপকারিতা সম্পর্কে।

গাজর খেতে সবাই পছন্দ করে। আমরা যে সব শাকসবজি খাই যেমন গাজর, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি,ফলমূল ইত্যাদি তার বেছি ভাগ শাকসবজি, ফলমূল রাসায়নিক পদার্থ, কিটনাশক ইত্যাদি দিয়ে মিশ্রিত। এই গুলো পদার্থ শরীরের জন্য খুব ক্ষতি কারক। সেটা আমরা সবাই জানি।

কি করবে খেতে তো হবেই আর উপায় নেই। গাজর পুষ্টিকর উপাদানের ভরপুর একটি অন্যতম সবজি। এটি কাঁচা এবং রান্না করে দুয়ো ধরনে খেতে পারি। গাজরের উপকারিতা প্রচুর রয়েছে। স্বাস্থ্যের জন্যে গাজরের উপকারিতা অন্ত নেই বলতে পারি।

গাজরের উপকারিতা

গাজরের ইংরেজি নাম হলো ‘ক্যারট’ (Carrots)। গাজর সবজি এবং কাঁচা দুয়ো ধরনে খুব জনপ্রিয় একটি সবজি। গাজর সবজির মধ্যে দ্বিতীয় জনপ্রিয় সবজি। গাজরে পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, পটাসিয়াম, ফাইবার, ভিটামিনের বিভিন্ন ধরনের উপাদান। যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন কে এবং ভিটামিন সি। স্বাস্থ্য সুস্থ্যের জন্য গাজরের উপকারিতা অনেক রয়েছে।

গাজরের পুষ্টিকর উপাদান কি কি রয়েছে

সুস্থ্য শরীরের জন্য গাজরের উপকারিতা অনেকগুলি রয়েছে, গাজর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য গুণ রয়েছে যা এটি ফ্রি র‌্যাডিকালগুলির প্রভাব থেকে রক্ষা করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গাজর ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। গাজরের ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন ধরণের হৃদরোগ দূর করতে সাহায্য করে। হজম শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য গাজরের রস বা সালাদ আকারে খেতে পারেন। আসুন জেনে নেই গাজরের থাকা পুষ্টিকর উপাদান গুলি কি কি?

গাজরের পুষ্টিকর উপাদান গুলি হলো —

  • ক্যালোরি — 30 গ্রাম
  • চিনি — 5 গ্রাম
  • প্রোটিন —1 গ্রাম
  • ডায়েটরি ফাইবার —2 গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট —7 গ্রাম
  • ভিটামিন এ —110% ডিভি
  • ভিটামিন-সি — 10% ডিভি
  • পটাসিয়াম — 250 মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম — 2% ডিভি
  • সোডিয়াম — 60 মিলিগ্রাম
  • আইরন — 2% ডিভি

গাজরের উপকারিতা কি কি

• ক্যানসার প্রতিরোধক: গাজর কেনো খাবেন? কারণ গাজরে থাকা পুষ্টিকর উপাদানে, ফুসফুসের ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্রের ক্যানসার রোধ করে।

• কোষ নষ্ট থেকে রক্ষা করে: গাজরের রয়েছে বিটা ক্যারোটিন এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টর মতো কাজ করে। আমাদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দেহের কোন গুলো নষ্ট হওয়া শুরু করে। তবে গাজরে থাকা বিটা ক্যারোটিনে কোষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে।

• হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: গাজরে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন, ও লিউটিনে দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর ফলে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে আসে।

• হজম বৃদ্ধি করে: হজম বৃদ্ধির জন্যে গাজরের উপকারিতা অনেক। কারণ গাজরে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা আপনার হজমে সাহায্য করে।

• হাড়কে মজবুত করে: গাজরে রয়েছে ক্যারোটিন, যা হাড় মজবুত করতে সহায়তা করে।

• দাঁতের জন্যে ভালো: গাজরের মধ্যে থাকা মিনারেলস উপাদান গুলো দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।

রাতকানা রোগীদের জন্যে ভালো: গাজর কেনো খাবেন? গাজরের উপকারিতা অনেক। কারণ গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ। যা আপনার রাতকানা রোগের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।

বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে: গাজরে রয়েছে বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করার উপাদান রয়েছে।

গাজরের গুনাগুণ সম্পর্কে এবং গাজরের উপকারিতা কি কি? সেটাও জানলেন। তাই সুস্থ স্বাস্থ্য জন্যে গাজরের উপকারিতা অনেক। তাহলে প্রতিদিন খাবারের তালিকায় গাজরের সবজি কিংবা কাঁচা গাজরের সালাদ রাখতে পারেন। এটি আপনার শরীরের পক্ষে খুবই উপকারী।

গাজরের অপকারিতা কি কি

গাজরের উপকারিতা যেমন অনেক তেমনি এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। গাজর যথাসম্ভব কাঁচা খাওয়ার চেষ্টা করুন, এতে পরিপূর্ণ ভিটামিন এবং মিনারেলস্ পাবেন।

• আপনে যদি প্রচুর পরিমাণে গাজর খান তাহলে আপনার ত্বকের রং হলুদ হয়ে যাবে। এছাড়াও শিশুদের দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।

• গরমে সময় অতিরিক্ত গাজর খাওয়া ভালো না, এমনিতেই অতিরিক্ত কোনো কিছু ভালো না। গরমের সময় অতিরিক্ত গাজর খেলে উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিদ্রার সমস্যা হতে পারে।

• অতিরিক্ত বেশি পরিমাণে গাজর খেলে আপনার গ্যাস, পেট, পাকস্থলির পাচনজনিত এবং ডায়রিয়া ব্যাধি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

• অতিরিক্ত গাজরের রস খাওয়ার ফলে মহিলাদের বুকের দুধের স্বাদ পরিবর্তিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অতিরিক্ত গাজরের রস খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

আরো পড়ুন ⇒

গাজর কেনো খাবেন? গাজরের উপকারিতা অনেক। দেশী শাকসবজি  যেমন গাজর, মুলা, আলু, ফুলকপি এবং বাঁধাকপি ইত্যাদি খেতে চাইলে গ্ৰাম অঞ্চলে যেতে হবে। গ্ৰাম অঞ্চলে রাসায়নিক পদার্থের পরিবর্তন জৈবিক পদার্থ ব্যবহার করে। দেশী শাকসবজি গুলো শরীরের বেছি সুস্থ এবং সবল রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিকের চেষ্টা করা উচিত দেশী শাকসবজি গুলো খাওয়ার জন্য।

Leave a Comment